নির্বাচন কমিশনে মধ্যযুগীয় বর্বর শাসন চলছে: মন্তব্য হাসনাতের"




সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক আমলা হাসনাত আহমেদ। তিনি বলেন, "বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আচরণ ও নীতিমালা মধ্যযুগীয় বর্বর শাসনের মতো। এখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই, বিরোধী মত দমন করা হচ্ছে, এবং প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।"


হাসনাতের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন এখন একটি পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিবর্তে চলছে ভয়ভীতি, দমন-পীড়ন ও অনিয়মের সংস্কৃতি।


তিনি বলেন, "সংবিধানে নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি, তা আজ এক প্রহসনে রূপ নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন যেন একটি ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর রক্ষাকবচে পরিণত হয়েছে।"


হাসনাত আহমেদের মতে, এই ধরণের কার্যকলাপ গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। তিনি অবিলম্বে কমিশনের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি পরিবর্তনের দাবি জানান এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের আহ্বান জানান।


তার এই মন্তব্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ একে সাহসী বক্তব্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।


এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।






 



বিএনপি নেতাদের জনগণের সেবক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, “রাজনীতি ক্ষমতা বা পদ অর্জনের মাধ্যম নয়, এটি জনগণের সেবার অঙ্গীকার।” তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, তারা যেন ব্যক্তিগত স্বার্থ বা গোষ্ঠীগত চিন্তা না করে জনগণের পাশে দাঁড়ান এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করেন।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন থেকে। তাই দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর প্রথম দায়িত্ব হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা। তিনি আরও বলেন, “আজ দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই অবস্থায় বিএনপির দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে।”

তিনি নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানান, তারা যেন জনগণের ঘরে ঘরে যান, তাদের সমস্যা শোনেন, এবং সমাধানে আন্তরিক ভূমিকা রাখেন। তারেক রহমান মনে করেন, রাজনীতি তখনই অর্থবহ হয় যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা যদি জনগণের জন্য কাজ করি, তবে জনগণই আমাদের শক্তি হবে, আমাদের রাজনীতির ভিত্তি হবে।”

শেষে তারেক রহমান বলেন, “দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে বিএনপিকে জনগণের দল হিসেবেই গড়ে তুলতে হবে। জনগণের সেবক হতে হবে, প্রভু নয়।” তাঁর এই আহ্বান বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে, এবং অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তার বক্তব্যকে দলের পুনর্জাগরণের বার্তা হিসেবে দেখছেন।

Comments

Popular posts from this blog

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সিরিজ আগুন, লুকিয়ে থাকা কালপ্রিটদের চক্রান্ত: সারজিস

কে জানতো ছেলেটা বড় হয়ে

শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করছেন শিক্ষকরা